Wednesday, January 27, 2016

মনের মুখোমুখি

মনের মুখোমুখি - ১

হাতের তালুতে
আঁকাবাঁকা কত রেখা
গণকে গোনে
গল্প বলে
হাজারো মিথ্যা...
আমি গুনি দিন
রেখা বদলের
জানিনা সত্য বা মিথ্যা



মনের মুখোমুখি - ২

এতদিন শুধু শুনেছি
নানাজনে বলে
ক্লান্তি ক্লান্তি
ধারে কাছে ছিলনা কোন দিন
এখন এমন সময়...
কোথা থেকে উড়ে এসে
বসেছে জুড়ে
মগজের কোষে কোষে
ক্লান্তি ক্লান্তি


মনের মুখোমুখি - ৩

কবিতাকে ডাকলাম
কবিতা বললো: "সময় নেই"
কিসের এত ব্যস্ততা জানিনা
কার মাথাতে বেধেছে বাসা বুঝিনা
কবে নাগাদ ফিরবে বলেনি সেটাও...
শুধু এটুকু জানি
মগজ ক্লান্ত হলে
কবিতা ঘুমিয়ে যায়
গভীর ঘুমে
হারিয়ে যায় প্রকৃতি
বিস্মৃত হয় দু:খ আর সুখ

মনের মুখোমুখি - ৪

আজ থেকে যাও
ঊঠোনের অর্ধেকটা আলো
অর্ধেকটা অন্ধকার
ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকে অন্ধকারে
আলোতে ইঁদুরে হামাগুড়ি দেয়...
আলো আঁধারে মৌনমুখে
দাঁড়িয়ে কি ভাবছো আবার
একবার দ্বিধাকে সঙ্গী করে
হেঁটেছো তো কত কাল
মনের অর্ধেকটা আলোতে
থাকতে থাকতে
ফিরে এসো
আঁধারের উঠোন ছেড়ে
চাদের কাছে এসে বসো
হাঁটু মূড়ে


মনের মুখোমুখি - ৫

কানারাও দ্যাখে আজকাল
সবাই এখন রক্ত ভালবাসে
গাছে গাছে পাতারা সব রক্তিম
তোমার চোখ, ঠোট আর হৃদপিন্ড
সব রক্তিম...
সবাই রক্ত ভালবাসে
মাংশ, রক্ত, কাগজ, বা প্লাস্টিক
এইসব ভালবাসে
শিশুদের হাতে তুলে দেয়
ড্রাকুলা, মনোপলি, বেয়োনেড, যুদ্ধ জেট
মগজে ভরে দেয় রক্তের নেশা
ধান নয় আংগুল ছেচে জন্ম দেয় রক্ত গোলাপ
কেটে ফ্যালে কারিগরের হাত
শ্রমিকেরে শ্বাসরোধ করে রাখে
ফিল্টারে রক্ত নেমে আসে
রক্তাক্ত পশু আর মানুষ
কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক
ফিনকি দিয়ে রক্ত উঠে
লেগে থাকে ক্যামেরার লেন্সে
সবাই রক্ত ভালবাসে



Saturday, June 6, 2015

খাবলে খায় দ্বিপদ জানোয়ার

পোকামাকড়েরা সব অবাক অবাক
শুকনো ঘাসে কত রক্ত কত খাবার
তালগাছের গোড়া থেকে নদীর কিনার
পোকাদের বিশাল লাইন
সাপ পরিবার এই এলাকাতে অনেকদিন
এত বড় পোকার লাইন দ্যাখেনি কোনকালে
আজকাল পোকাদের খুব উতসব লেগে থাকে
কেঁচো উঠে আসে মাটির নীচে থেকে
শালিকেরাও ব্যস্ত খুব
মাছেরা এদিকওদিক
উকি দিয়ে সরে গেছে দূরে
সেসব কিছু দ্যাখে
বরফ জমা দেহ
বিস্ফোরিত চোখ
তার ঠোটের চারিপাশে বিজবিজে পোকা
ঠোটের রঙ বোঝা যায়না
চোখভরা বিস্ময়
ব্যাথাভরা
কারা যেন খেয়ে গেছে দেহ
পোকাদেরও আগে
পাখীরা বিস্মিত
গাছপালা, জন্তু, পাখী
কেউ দ্যাখেনি কখনও
এমন খাদক
খাবলে খেয়েছে দেহ
তারপর চলে গেছে দুপায় হেটে

স্থবির

রেখে দিও যত্ন করে
সময় হলে খুলে দেখো
ভাজে ভাজে সাজানো 
অপেক্ষা 
আকাঙ্ক্ষা 
মৃত মথ
কুৎসিত কদাকার
প্রজাপতি হতে না পেরে
বন্দি হয়ে ছিল
ভাজে ভাজে সাজানো
অপেক্ষা
উড়ে যাবার
আলো দেখার
ফুলের সুগন্ধি মেখে
উৎসবে যোগ দেবার
অপেক্ষা
ম্লান আর বিবর্ণ এখন
ভাজে ভাজে
খেরোখাতা
ছেড়া পাতা
তবু রেখে দিও যত্ন করে
এছাড়া কিছু নেই
ভাজে ভাজে সাজানো
অপেক্ষা
আকাঙ্ক্ষা
সব কিছু মৃত
স্থবির

বাক্সের মাঝখানে

মগজের চারিপাশে এক বাক্স
বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে
নীল আর খোলা আকাশ থেকে
আদিযুগের গল্পে 
ঝুলে আছে ফাংগাস
মৃত-তালা পাঠশালা
দ্যাখেনা সূর্য
হলুদ আলো
রংকানা আটকে আছে
বাক্সের মাঝখানে

স্মৃতিবিস্মৃতি

ধীরে ধীরে আমি ডুবে যাচ্ছি
চোরাবালি স্মৃতিবিস্মৃতি 
এক সময় ভাবি
কোথাও আমার কিছু নেই
তবু কেনো পিছুটান এত?
ছেড়ে দিচ্ছি
ধীরে ধীরে লাগাম
মন থেকে
দেহ ফেলে এসেছে সেই কবে
যোজন যোজন দূরে
তবু কেনো পিছুটান এত?
কেন ভাবি কত কাজ
অগোছালো রয়ে গেল
কত কথা না বলা
রয়ে গেল
কত ছবি আকিনি আমি
কতভা্বে কতকিছু দেখি
কারুকে বলিনি কেনো
দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছি আমি
মোমের মত
গলে যাচ্ছি ধুম্রজালে
ভেসে ভেসে উবে যাচ্ছি
থেতলানো মন
নিয়ে

অপেক্ষা ছিল

অপেক্ষা করি
কোথাও কোন আওয়াজ নেই
শুধু আনচান করে মন অযথা 
ফিরে দেখি
এক বিশাল পথ পেড়িয়ে
এসেছি সম্পুর্ন একা
কেউ অপেক্ষা করেনি
কোথাও কখনও
কারু কোন পদচিহ্ন নেই
ফিরে দেখি সেই নিঃসঙ্গ পথে
কারু কোন হৃদস্পন্দন নেই
এমনকি কোন দীর্ঘশ্বাস
তবু অপেক্ষা ছিল
বাদুরের মত ঝুলে
ঘুমিয়ে ছিল স্বপ্ন নিয়ে
চোখ খুললেই উজ্বল হবে
আলো
হাতের মূঠোয় সূর্য নিয়ে
ঘুম ভাংবে
অপেক্ষা ছিল

মেঘ

পেজা তুলোর মত মেঘ 
উড়ে এলো 
ভাবলাম 
ভাজে ভাজে ধরে রাখবে আমায়
দুলিয়ে দোলনায়
গলে গেল
বৃষ্টি হয়ে
ভাসিয়ে নিলো
উঁচু উঁচু স্রোতে
ছুঁড়ে দিলো
হাজার ফুট নীচে
অন্য এক গ্রহে