Thursday, October 17, 2013

দাস-মালিক সম্পর্ক

সব দাসেরই প্রভু হবার বাসনা থাকে
সব প্রভুরাই কারু না কারু দাস থাকে
সব স্তরেই দাস আর প্রভু আছে
মুক্তি রুপকথা তাই প্রিয় পাঠ সবার কাছে
মুক্তি রুপকথা রাজ্যের মূল ফটকে
এক মৃত তালা ঝুলে
দাস আর প্রভুরা পালা করে
এই মৃত্যুর দায়ভার বহন করে

অধরা




খোলা মাঠ
গনগনে রোদ্দুরে
এক ঝাঁক কাক
মধ্যখানে বসে
অলস গাভী জাবর কাটে
নিমের নরম ডালে
দোল খায় চড়ুই পাখী
সেখান থেকে একটু নিচে
 খালের হাটু জলে
খেলা করে ছেলেপুলে
মৃত গাছের গুড়িতে বৃদ্ধ বসে
স্মৃতির দুয়ার খুলে
নেমে আসে কিশোর হয়ে
হাতের কব্জিতে ছ্যাচা খায়
হাটু জলে ঝাপ দিয়ে

কবর

আমি সূর্যকে ভয় করি
আলোতে স্পষ্ট দেখা যায়
অদ্যবধি যা কিছু ঘটে গেছে
এই হাটে
ভাঙ্গা হাড়ি, চুরমার কাঁচ
হতাশা, ক্রোধ, অমীমাংসিত বোধ
উচ্ছিষ্টের মত ছুড়ে ফেলে দেওয়া মন
কালাবাজারে বিক্রি হয়
মান সন্মান আপনজন 

আমি সূর্যকে ভয় করি
আঁধারের অপেক্ষা করি
চাঁদের মিষ্টি আলোতে
গল্প বলতে পারি
যা কিছু জ্বলে গেছে
সূর্যের আগুনে

আঁধারের অপেক্ষা করি

আলোতে হারিয়ে যাবার বড্ড ভয়
আঁধারে নিজেকে খুঁজে পাই


Sunday, September 22, 2013

শূন্য

বুকে হাত রেখেছি
খুঁজে পাইনি
এমনকি অবশ হৃদপিন্ড
চোখে চোখ রেখেছি
সম্পুর্ন অনুপস্থিত ছিল
ভালবাসা
শুধু ক্ষুধা ছিল
না মনে না দেহে
শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনে
শুধু ক্ষুধা ছিল কাগজের...
কাগজ ঠাসা পেটের ভেতরে
জ্বলে আগুন দাউ দাউ করে
সেখানে শুধু ছাই
বিশুদ্ধ আর পবিত্র ছাই
কেটে রাখে কালো আঁচড়
ফেলে যাওয়া সময়ের
এমনকি কোন টিউমার
পাইনি খুঁজে
হৃদপিন্ড খুঁজে খুঁজে
কেটে গেছে কত কত কাল
শুধু কালো কালো আঁচড়ের দাগ
কাঁটা ছিল শূন্য ডেকের উপরে
উড়ে গেলে বিশুদ্ধ ছাই
বাতাসে

জড়ো

অপ্রয়োজনে কেউ কাছে এলে
সবাই তিরস্কার করে
তাই ভালবাসার রুপকথা বলতে হয়
প্রয়োজনের কথা খামে ভরে রেখে
তারপর ভালবাসার রুপকথা শুনে শুনে
মন আছন্ন হলে গভীর ঘুমে
খাম থেকে প্রয়োজনের সব গল্পেরা এসে
খুঁজে নেয় যার যার অবস্থান
ভালবাসার রুপকথার নেশা কেটে গেলে
সূর্য উঠে নিদারুন আগুন হয়ে ...
শুখিয়ে দেয় ভালবাসার ফল্গুধারা
প্রয়োজনের গল্পেরা বুকের কাছে এসে
শ্বাস নেয় জোরে জোরে
রুপকথা ঝাপি বন্ধ করে উদাস হয় চোখ
অকারনে অশ্রু ঝরে
মাটির ভাঙ্গা পুতুল ভাগাড়ে ছুরে ফেলে
প্রয়োজনের গল্পেরা রুপকথা খেয়ে ফ্যালে
পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলে
যার যার অবস্থান থেকে
নতুন এক দিন শুরু করে

বুনো ফুল

আমি কেঁদেছি ঠিকই
তবে লুকিয়ে ফেলেছি অশ্রু
মিশে যেতে দেইনি মেঘে
মিশে গেলে মিলে যেতো
হারিয়ে ফেলতো স্বকীয়তা
আমি লুকিয়ে ফেলেছি অশ্রু
আলো আঁধারে ডেউয়ের দোলায়
ভেসে যেতে দিইনি স্রোতে
ভেসে গেলে খুঁজে নিতো
অন্য এক নাম অন্য এক বাকে
হারিয়ে ফেলতো আমার নাম
বুনো ফুলের সুবাস
আমি লুকিয়ে ফেলেছি অশ্রু
কারু চোখে পড়তে দেইনি
দেখে ফেললে মূল্য হারাতো
অমূল্য মনিমুক্তো

Saturday, August 17, 2013

সুহাসিনী

মরুভুমি ছিল
মরিচিকা ছিল
বুক বেঁধেছিল মরূদ্যানের
সুহাসিনী সেই মেয়ে
জোছনাতে ভেজা স্নিগ্ধ চুলে
নেচেছিল খুশী চোখের তারায় নিয়ে
হেসেছিল ঠোটে মিষ্টি হাসি
নগ্ন পায়ে পথ চলে চলে
মরু মাকরসা শুষেছিল
তার শোনিত ধারা...
চিকচিকে বালু
দিয়েছিল ঢেকে
ফ্যাকাসে সেই মেয়ে্র শবে
নুপুরটা শুধু ঝিকমিক করে
জেগেছিল

তারার আলোতে
সারারাত ধরে